
কর্ণফুলীতে লরির পেছনে হাইস মাইক্রোবাসের ধাক্কা: ঈদগাঁওর একই পরিবারের দম্পতিসহ নিহত
রাজীব দাশ ক্রাইম রিপোর্টার।
চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে লরির পেছনে দ্রুতগামী হাইস মাইক্রোবাস তীব্র গতিতে ধাক্কায় কক্সবাজারের ঈদগাঁও এলাকার একই পরিবারের দম্পতিসহ পাঁচজন মর্মান্তিকভাবে নিহত হয়েছেন। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় চালকসহ দুর্ঘটনাস্থলেই তিনজন মারা যান এবং পরবর্তীতে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুজনের মৃত্যু হয়।
শনিবার গভীর রাতে (আনুমানিক ১টা ২৫ মিনিট) চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কর্ণফুলী থানাধীন কলেজ বাজার এলাকায় এ মর্মন্তুদ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন—কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার মাইজপাড়া এলাকার আরাফাত মার্কেটের মালিক ফিরোজ (৬০), তাঁর স্ত্রী আরফা বেগম (৫৫) এবং মাইক্রোবাসটির চালক। হাসপাতালে মারা যাওয়া বাকি দুজনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ থেকে চালকসহ মোট ১১ জন যাত্রী নিয়ে হাইস গাড়িটি কক্সবাজারের ঈদগাঁও মাইজপাড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। চালক ব্যতীত গাড়িতে থাকা যাত্রীরা সবাই একে অপরের আত্মীয়-স্বজন। পথিমধ্যে কর্ণফুলীর কলেজ বাজার এলাকায় কন্টেইনার বোঝাই একটি লরি ইউ-টার্ন নেওয়ার সময় পেছন থেকে আসা দ্রুতগতির হাইস গাড়িটি সজোরে লরির পেছনে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার তীব্রতায় গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে মহাসড়কের পাশে ছিটকে পড়ে।
দুর্ঘটনাস্থলেই ফিরোজ, তাঁর স্ত্রী আরফা বেগম এবং গাড়ির চালক প্রাণ হারান। পরে স্থানীয় জনতা ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠালে সেখানে আরও দুজন মারা যান। তবে এত বড় দুর্ঘটনার পরও মীর কাশেম (৬০) ও শামশুল আলম (৫৫) নামের দুজন যাত্রী অলৌকিকভাবে অক্ষত অবস্থায় বেঁচে যান।
ঘটনার পরপরই কর্ণফুলী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স টিম এবং কর্ণফুলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূর মোহাম্মদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। উদ্ধার কার্যক্রম ও আহতদের দ্রুত হাসপাতালে প্রেরণের সার্বিক তদারকি করেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা, ওসি নূর মোহাম্মদ এবং সাব-ইন্সপেক্টর জাকির।
কর্ণফুলী থানা পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনাকবলিত হাইস গাড়ি এবং ঘাতক কন্টেইনার লরিটিকে আটক করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।