
জলবদ্ধতা,অবকাঠামো, শিক্ষা ও বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানে জোর,
মাসুদ পারভেজ
জলবদ্ধতা,অবকাঠামো, শিক্ষা ও বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানে জোর,….
শিকলবাহাকে আধুনিক ইউনিয়নে রূপান্তরের প্রত্যয় চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল ইসলামের
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন, অবকাঠামোগত অগ্রগতি, বেকারত্ব দূরীকরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ব্যাপক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন আসন্ন শিকলবাহা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বর্তমান ইউপি সদস্য মো. নুরুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ,এলাকায় অসংখ্য যুবক রয়েছে যারা বেকারত্বের হতাশা মাথায় নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে সেই বেকারত্ব দূরীকরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং একটি আধুনিক, উন্নত ও জনবান্ধব ইউনিয়ন গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি ও বাস্তবমুখী উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
সম্প্রতি দৈনিক পূর্বদেশকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কর্ণফুলী উপজেলা যুবদলের আহবায়ক নুরুল ইসলাম বলেন, শিকলবাহা ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত রয়েছেন। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে মাঠপর্যায়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি উপলব্ধি করেছেন যে, ইউনিয়নের টেকসই উন্নয়নের জন্য পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, আমি নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে সমানভাবে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করব। কোনো এলাকা যেন উন্নয়নের বাইরে না থাকে, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হবে। জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে একটি অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে তিনি জানান, ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো সংস্কার, নতুন সড়ক নির্মাণ, কালভার্ট ও সেতু নির্মাণ এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন তার অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার কারণে ভোগান্তিতে থাকা এলাকাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজ করা হবে বলেও জানান তিনি।
বেকারত্ব দূরীকরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি বিষয়ে নুরুল ইসলাম বলেন,আমার ইউনিয়নে সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হলো যুবকদের বেকারত্ব। আমি বিশ্বাস করি, একটি পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা এবং একটি এলাকার উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হলো কর্মসংস্থান। তাই জনগণের ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি আমার অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হবে।
তিনি বলেন,আমি এলাকার যুবসমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করতে বিভিন্ন কারিগরি ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণে কাজ করব। আমাদের কর্ণফুলী অসংখ্য মিল কারখানা রয়েছে তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে যুবকদের চাকরির সুযোগ সৃষ্টি, বিদেশগামী কর্মীদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহযোগিতা প্রদান এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা তৈরিতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে।
জলবদ্ধতা নিরসনের বিষয়ে নুরুল ইসলাম জানান,প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম এলেই শিকলবাহার মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হয়। একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তাঘাট ডুবে যায়, বাসাবাড়িতে পানি ওঠে এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম স্থবির হয়ে পড়ে। এই জলাবদ্ধতা কেবল আমাদের চলাচলের পথ বন্ধ করে না, বরং স্বাস্থ্যঝুঁকি ও সামাজিক ক্ষতিও বাড়ায়।
বিশেষ করে, জমে থাকা পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য বিদ্যমান ড্রেন ও নালাগুলো দ্রুত খনন ও পরিষ্কার করা,খালের প্রবাহ বাধাগ্রস্তকারী অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে ড্রেনের পরিধি বৃদ্ধি করা এবং নালা-নর্দমায় প্লাস্টিক জমে পানি প্রবাহ যেন বন্ধ না হয়, সে জন্য নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ সহ জলবদ্ধতা নিরসনে আইতিমধ্যে নানাবিদ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।
এছাড়াও কৃষি, মৎস্য, গবাদিপশু পালন ও ক্ষুদ্র ব্যবসাভিত্তিক প্রকল্পে যুবকদের সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো হবে। ইউনিয়নের মেধাবী ও কর্মক্ষম যুবকদের জন্য একটি দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সহায়তা প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে তারা নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের সুযোগ পেতে পারে।
তিনি আরও বলেন,আমি চাই আমার ইউনিয়নে কোনো যুবক বেকারত্বের হতাশায় না ভুগুক। যুবসমাজের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে একটি স্বাবলম্বী, উন্নত ও সমৃদ্ধ ইউনিয়ন গড়ে তোলাই হবে আমার লক্ষ্য।
শিক্ষা খাতের উন্নয়নে তিনি বলেন, একটি শিক্ষিত সমাজ গঠনের মাধ্যমেই টেকসই উন্নয়ন সম্ভব। তাই ইউনিয়নের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসাগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করা হবে। তিনি দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি ও শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচি চালুর কথাও উল্লেখ করেন।
স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইউনিয়নের কমিউনিটি ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম আরও গতিশীল করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। পাশাপাশি মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা, সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।
তরুণ ও যুবসমাজ’কে মাদক এবং অপরাধ মূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, একটি সমাজের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার তরুণ ও যুবসমাজ। কিন্তু আজ মাদকাসক্তি, কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাস, চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আমাদের যুবসমাজের ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ফেলছে। এই পরিস্থিতি থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করা শুধু একটি দায়িত্ব নয়, বরং একটি নৈতিক অঙ্গীকার।
আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করব। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজের সচেতন ব্যক্তিদের সমন্বয়ে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে সচেতনতামূলক সভা, উঠান বৈঠক এবং যুব সমাবেশের আয়োজন করে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করা হবে।
স্থানীয়রা বলছেন, ইউপি সদস্য হিসেবে নুরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বিভিন্ন সামাজিক,মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন। ব্যক্তিগতভাবে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বিভিন্ন সামাজিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে ভূমিকা রাখা এবং এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কারণে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন বলে মনে করছেন অনেকেই।
শিকলবাহা ইউপির স্থানীয় বাসিন্দা মো. আমজাদ হোসেন বলেন,নুরুল ইসলাম মেম্বার দীর্ঘদিন ধরে মানুষের পাশে রয়েছেন। আমার দেখা মতে তার সেবা শুধু ৬নং ওয়ার্ড এর মেম্বার হিসেবে শুধু তার ওয়ার্ড বা এলাকায় সীমাবদ্ধ ছিলনা বরং তিনি পুরো শিকলবাহার ৯ ওয়ার্ডের প্রত্যেক এলাকার মানুষ’কে তিনি সেবা দিয়েছেন। আমার জানা, তার কাছ থেকে সহযোগিতা নিতে কর্ণফুলীর যেকোন এলাকা থেকে এসে খালি হাতে ফিরে গেছে এমন একজনও মানুষ পাবেন না। নুরুল ইসলাম মেম্বার যদি আগামীতে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে ইউনিয়ন উন্নয়নের রোল মডেল হবে এবং অসহায় গরিব দুঃখী মানুষের রক্ষা পাবে বলে আমরা আশা করছি।
তিনি বলেন,শিকলবাহা ইউনিয়নের বিভিন্ন সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান প্রয়োজন। তিনি যেসব পরিকল্পনার কথা বলেছেন, সেগুলো বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে।
উল্লেখ্য, কর্ণফুলী উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন শিকলবাহাকে ঘিরে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যে নানা আলোচনা সমালোচনা ও উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে জনমতের কাছে যাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. নুরুল ইসলামের উন্নয়ন ভাবনা ও ঘোষিত কর্মপরিকল্পনা স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সাড়া পেলেছে।