
বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির শহর কক্সবাজার সৈকতে বসছে তিনদিনের পর্যটন উৎসব
উদ্বোধন আজ
নাছির উদ্দীন পিন্টু কক্সবাজার
বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির শহর কক্সবাজার সৈকতে বসছে তিনদিনের পর্যটন উৎসব…
সমুদ্রের নীল জলরাশি, দীর্ঘ সৈকত আর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির শহর কক্সবাজার সৈকতে বসছে তিন দিনের পর্যটন উৎসব। বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে নানা আবহে আজ ২৫ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত লাবণী পয়েন্টের উন্মুক্ত মঞ্চে চলবে এ আয়োজন। পর্যটন সম্ভাবনাকে তুলে ধরার পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন সৈকত, পর্যটকদের নিরাপত্তা, পরিবেশ সচেতনতা এবং স্থানীয় সংস্কৃতির বৈচিত্র্যকে তুলে ধরাই এবারের আয়োজনের মূল লক্ষ্য। কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলায় থাকছে সৈকত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, পর্যটন মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, লোকজ সংগীত, ফায়ার শো, ব্যান্ড শো, র্যালি, ঘুড়ি উৎসব, লাইফগার্ডের জরুরি সেবা ও ফার্স্ট এইড প্রদর্শনীসহ নানা আয়োজন।
কক্সবাজার বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সমন্বয়ক ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) তাসনীম জাহান বলেন, ২০২৩ সালে সর্বশেষ জমজমাট ভাবে বিশ্ব পর্যটন দিবস উদযাপন করা হয়েছিল। গত দুবছর তেমন কোনো আয়োজন ছিল না বললেই চলে। কিন্তু এবার পুরোনো আমেজেই বর্ণাঢ্য কলেবরে পর্যটন দিবস উদযাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্য সময়ে বিশ্ব পর্যটন দিবসেই আয়োজন শুরু হয়ে টানা সপ্তাহব্যাপী চলতো। এবার আগেই নানা আয়োজন শুরু হয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে উদযাপন সম্পন্ন করা হবে। তিনি জানান, সাপ্তাহিক ছুটিকে সামনে রেখেই আজ শুক্রবার দিবসটির আয়োজন শুরু হচ্ছে। দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যা রাত পর্যন্ত ফোক সংগীত, ফায়ার শো ও ব্যান্ড সংগীত আয়োজন থাকবে। শনিবার চলবে মিউজিক্যাল নাইট। আর রোববার সকালে শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, রাখাইন নৃত্য ও সমাপনী সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা আয়োজন হবে। পর্যটন জোনের লাবণী পয়েন্টে, সৈকতের উন্মুক্ত মঞ্চে প্রতিদিন বিকেল থেকে এশার পর্যন্ত সময় তিনদিনের আয়োজন উপভোগ করতে পারবেন পর্যটক এবং দর্শনার্থীরা। দ্বিতীয় দিন শনিবার সকালে আবারও সৈকত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলবে। বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে সৈকত পরিচ্ছন্নতা অভিযান। এরপর বিকেলের আয়োজনে থাকবে সূফি ও কাওয়ালি গান, ফোক গান এবং ডুয়েট গান। বিশ্ব পর্যটন দিবসের দিন ২৭ সেপ্টেম্বর রবিবার। এদিন সকাল ৯টায় সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে লাবণী পয়েন্ট পর্যন্ত বের হবে বর্ণাঢ্য র্যালি। সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে বিশ্ব পর্যটন দিবসের গুরুত্ব ও কক্সবাজারের পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা সভা। বিকেল ৩টায় হবে ঘুড়ি উৎসব।
বিকেল ৪টায় পর্যটকদের নিরাপত্তায় সি–সেফ লাইফগার্ডের জরুরি সেবা ও ফার্স্ট এইড কার্যক্রমের প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। বিকেলে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এছাড়াও থাকবে রাখাইন নৃত্য, বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে চাকমা, ম্রো ও রাখাইন নৃগোষ্ঠীর নৃত্য পরিবেশনা।
জেলা প্রশাসক মো. আঃ মান্নান বলেন, তিন দিনের এই মেলা কক্সবাজারে আগত পর্যটকদের জন্য বাড়তি বিনোদনের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি পর্যটন শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন উদ্যম সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্ন সৈকত, নিরাপদ পর্যটন এবং স্থানীয় সংস্কৃতির সংরক্ষণে জনসম্পৃক্ততা বাড়াবে।