মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:০২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের ১১তম অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের দায়িত্ব গ্রহণ চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজির উপস্থিতিতে রাঙ্গামাটি মাদকবিরোধী সুধী সমাবেশ ও র‌্যালি বান্দরবান নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে বাংলাদেশি নিহত জাহাজভাঙা শিল্পে নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের দাবিতে বিস্ফোরক অধিদপ্তর ঘেরাও চট্টগ্রাম নগর পুলিশের পাঁচ থানায় ওসি পদে রদবদল ওয়াসার পানি উৎপাদন আরও ৫০ কোটি লিটার বাড়ানোর পরিকল্পনা মাদক মামলার আসামিদের জন্য জঙ্গল সলিমপুরে আলাদা কারাগার হবে : মীর হেলাল চট্টগ্রাম সীতাকুণ্ডে বাড়ছে ড্রাগন চাষ নিরাপদ খুলনা চাই ফুলতলা উপজেলা শাখার উদ্যোগে মানববন্ধন

রথযাত্রা উৎসবে ভক্তের ঢল

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬
  • ৫৮ বার পড়া হয়েছে

রথযাত্রা উৎসবে ভক্তের ঢল
বাংলাদেশ হবে সামপ্রদায়িক সমপ্রীতির অনন্য উদাহরণ : মীর হেলাল

স্টাফ রিপোর্টার

রথযাত্রা উৎসবে ভক্তের ঢল
বাংলাদেশ হবে সামপ্রদায়িক সমপ্রীতির অনন্য উদাহরণ : মীর হেলাল
উৎসবমুখর পরিবেশে চট্টগ্রামে উদযাপিত হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা। রথযাত্রা উৎসবে হাজারো ভক্তের ঢল নামে। বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে ভক্তরা পায়ে হেঁটে ও ট্রাকে চড়ে নামসংকীর্তনসহ অংশ নেন। এসময় রথ থেকে ভক্তদের মধ্যে আশীর্বাদ ও প্রসাদ বিতরণ করা হয়।

গতকাল দুপুরের পর থেকে শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসবে অংশ নিতে নগরী ও জেলা থেকে সাধু–সন্ন্যাসী ও ভক্তরা নগরের নন্দনকানন রথের পুকুরপাড় এলাকায় কেন্দ্রীয় রথযাত্রা, ইসকন প্রবর্তক মন্দির এবং নন্দনকাননের রাধামাধব মন্দিরের (ইসকন) বর্ণাঢ্য রথযাত্রায় অংশ নেয়ার জন্য সমবেত হতে থাকেন। বিকেল ৩টা থেকে এই তিন স্থানে পৃথকভাবে রথযাত্রা উৎসবের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের পর আলাদা আলাদা রথযাত্রা নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এছাড়া নগরের বিভিন্ন মন্দির থেকেও পৃথকভাবে রথযাত্রা বের করা হয়। এ সময় প্রবর্তক মোড়, নন্দনকানন, গোলপাহাড়, কাজীর দেউড়ি, জামালখান, চেরাগী পাহাড়, আন্দরকিল্লা এবং নিউমার্কেট এলাকাজুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ। রথযাত্রা উপলক্ষে নগরের ব্যস্ততম ১৬টি পয়েন্টে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।

তুলসীধাম ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা উৎসব: নগরীর নন্দনকানন রথের পুকুর পাড় এলাকায় কেন্দ্রীয় রথযাত্রা উদ্‌যাপন কমিটির আয়োজনে রথপরিক্রমা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, তুলসীধাম ঐতিহ্যবাহী তীর্থস্থান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী দিনের বাংলাদেশ হবে সামপ্রদায়িক সমপ্রীতির এক অনন্য উদাহরণ।

ঋষিধাম অধিপতি ও তুলসীধামের মোহন্ত শ্রীমৎ দেবদীপানন্দ পুরী মহারাজের পৌরোহিত্যে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নন্দনকাননের ঐতিহাসিক রথের পুকুর পাড় আজো ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। হাজারও ভক্তের উপস্থিতি আজ আবারও প্রমাণ করেছে, বাংলাদেশ সত্যিকারের অসামপ্রদায়িক চেতনা ধারণ করে।

মহান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম–৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান বলেন, একটি গোষ্ঠী নানা অজুহাতে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়। তবে বাংলাদেশের সব ধর্ম, বর্ণ ও সমপ্রদায়ের মানুষ বিএনপির হাতে নিরাপদ।

কেন্দ্রীয় রথযাত্রার উদ্বোধক ছিলেন চট্টগ্রামস্থ ভারতীয় দূতাবাসের সহকারী হাইকমিশনার শ্রী হরিশ কুমার।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি দীপক কুমার পালিত। স্বাগত বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় রথযাত্রা উদযাপন কমিটির সভাপতি হিরন্ময় ধর। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিধান ধর। অ্যাড. সুজন কান্তি দে ও অনুপম দেবনাথ পাভেলের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য দেন জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সম্পাদক বিপ্লব দে পার্থ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রাজীব ধর তমাল, অভয়মিত্র মহাশ্মশান পরিচালনা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সৌরভ প্রিয় পাল, পূজা উদযাপন পরিষদ ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক বিপ্লব চৌধুরী বিল্লু, চট্টগ্রাম মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সদস্য সচিব বাপ্পী দে, আনন্দময়ী কালী মন্দির পূজা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুজন দাশ, সুজিত হাজারী, অধ্যাপক প্রণব মিত্র চৌধুরী, স্থপতি প্রণত মিত্র চৌধুরী, ডা. মনোজ চৌধুরী, রঞ্জন প্রসাদ দাশগুপ্ত, উত্তম কুমার চক্রবর্তী, সোনারাম ধর, শ্যামদাশ ধর, সজল চৌধুরী, প্রদর্শন দেবনাথ প্রমুখ। এসময় অতিথিদের কেন্দ্রীয় রথযাত্রা উদ্‌যাপন কমিটির পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক তুলে দেয়া হয়।

তুলসীধামে রথযাত্রা উপলক্ষে আয়োজন করা হয় নামযজ্ঞ, জগন্নাথ–সুভদ্রা–বলভদ্রের পূজা, ধর্মীয় সঙ্গীতানুষ্ঠান ও চিকিৎসা ক্যাম্প। দিনব্যাপী বিতরণ করা হয় মহাপ্রসাদ।

প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরের রথযাত্রা উৎসব: চট্টগ্রামে নগরীর প্রবর্তক মোড়ে ইসকন প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরের উদ্যোগে আয়োজিত রথযাত্রায় ছিল ভক্তের ঢল।

বিকাল ৪টায় এ উৎসব মুখর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। উদ্বোধক ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

এসময় প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বলেন, আমি আপনাদের ভাই, বন্ধু। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের মানুষের দুঃখ লাগবের জন্য বৈষম্যহীন ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সবার আগে বাংলাদেশ। হাজার বছরের ইতিহাসে এই ভূখণ্ডে বিভিন্ন ধর্ম, সংস্কৃতি ও সমপ্রদায়ের মানুষ পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার মধ্য দিয়ে বসবাস করে আসছে। এই ঐতিহ্যকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও সমৃদ্ধ করা আমাদের সবার দায়িত্ব।

উদ্বোধকের বক্তব্যে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আমি সবসময় ঐক্যের পক্ষে। চট্টগ্রামকে ক্লিন, গ্রিন, হেলদি ও সেইফ সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। মেযর হিসেবে নয়, জনগণের সেবক হিসেবে আপনাদের পাশে থাকতে চাই।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসকন প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরের অধ্যক্ষ শ্রীপাদ দারুব্রহ্ম জগন্নাথ দাস ব্রহ্মচারী। স্বতন্ত্র গৌরাঙ্গ দাস ব্রহ্মচারীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার হরিশ কুমার, রচট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরি সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব দে পার্থ, শ্রীমৎ স্বামী পরিতোষানন্দ গিরি মহারাজ, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ সভাপতি সৌরভ প্রিয় পাল, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের যুগ্ম মহাসচিব বিশ্বজিৎ দত্ত বাবু, বেসরকারী কারা পরিদর্শক উজ্জ্বল বরণ বিশ্বাস, শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক সুজন দাশ, ডা. যীশুময় দেব, সুমন সরকার, সুব্রত আইচ প্রমুখ। প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি সহ অন্যান্য অতিথিগণ মিলে বেলুন উড়িয়ে জগন্নাথের রথযাত্রার শুভারম্ভ করেন। বিকাল ৪ টায় রথযাত্রার বর্ণাঢ্য মহাশোভাযাত্রা প্রবর্তক মোড় থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সিনেমা প্যালেস প্রাঙ্গণে সমাপ্ত হয়। শোভাযাত্রায় বিভিন্ন পৌরাণিক সাজের মাধ্যমে আবহমান বাংলার ও বৈদিক সংস্কৃতির চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews