
টানা ভারী বর্ষণে রাঙামাটিতে দুর্ভোগে ২০ হাজার মানুষ
শাহ্ জালাল সুমন – রাঙ্গামাটি
টানা ভারী বর্ষণে রাঙামাটিতে দুর্ভোগে ২০ হাজার মানুষ
টানা পাঁচদিনের বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে রাঙামাটি। বন্ধ হয়েছে তিনটি সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা। বাঘাইছড়ি উপজেলায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। কাপ্তাই হ্রদের পানির স্রোতে নিখোঁজ হয়ে মারা গেছে দুজন। তলিয়ে গেছে প্রায় চার হাজার হেক্টর ফসলি জমি। অপরদিকে, সাজেক পর্যটন কেন্দ্রে এখনো আটকা আছেন ৪১১ জন পর্যটক। নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে পর্যটন শিল্পসহ সার্বিক ব্যবসাবাণিজ্যে। এতে জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে প্রশাসন।
জেলা প্রশাসক, উপজেলা প্রশাসন, সড়ক বিভাগ ও কৃষি সম্প্রসারণ অফিস থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে বাঘাইছড়ির কাচালং নদীর পানির উচ্চতা হু হু করে বেড়ে চলেছে। এতে উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। কাপ্তাই হ্রদের পানি বেড়ে যাওয়ায় বাঘাইছড়ি বরকল ও লংগদু উপজেলায় ডুবে গেছে ফসলি জমি।
জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফি জানান, পুরো জেলায় ৩৪টি আশ্রয় কেন্দ্রে এ পর্যন্ত সাড়ে চার হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর জরুরি ত্রাণ তহবিল থেকে ২০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। দুর্গত মানুষের সহায়তায় সরকারের পাশাপাশি এগিয়ে এসেছেন স্থানীয়রা।
এদিকে, গতকাল বৃহস্পতিবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা জরুরি পরিদর্শন করেছেন সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান। তিনি রাঙামাটি পৌরসভা ও কাপ্তাই উপজেলার আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে দুর্গত মানুষের খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, দুর্যোগের পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি পোষাতে সরকার জরুরি পদক্ষেপ নেবে।
বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমেনা মারজান জানান, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নিম্ন এলাকা ও পৌরসভার সব ওয়ার্ড আকস্মিক পানিতে তলিয়ে যায়। এতে প্রায় ২০ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্ধি হয়ে পড়েছে। উপজেলার অভ্যন্তরীণ সব সড়ক তলিয়ে গেছে। গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার উদ্ধার কাজ চালিয়ে এ পর্যন্ত সাড়ে তিন হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, দীঘিনালা-সাজেক সড়কের মাচালং অংশ পানিতে তলিয়ে থাকায় আটকে পড়া পর্যটকদের সহজে ফেরত আনা সম্ভব হচ্ছে না। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে আটকে পড়া ৫৬১ জন পর্যটকের মধ্যে ১৫০ জনকে সেনাবাহিনীর সহায়তায় উদ্ধার করে নিজ বাড়িতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বাকি ৪১১ জন সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছেন ।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের এনডিসি শেখ সালমান জানান, পৃথক ঘটনায় দু’জন নিখোঁজ হয়েছেন। এর মধ্যে কাপ্তাই হ্রদে ভাসমান অবস্থায় একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তার নাম দলমনি চাকমা, তিনি রাঙামাটি সদর উপজেলার মগবান এলাকার বাসিন্দা। অপরজন হলেন জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার অজ্ঞাতনামা এক ব্যবসায়ী। গত বুধবার তিনি নিখোঁজ হন। বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়েছে সড়ক যোগাযোগ।
ভাঙনের পাশাপাশি সড়কের কয়েকটি স্থান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়ক, বাঘাইছড়ি উপজেলার সঙ্গে খাগড়াছড়ি জেলা এবং খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার সঙ্গে লংগদু উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এসব সড়কে অন্তত ৯৮ জায়গায় ভাঙন হয়েছে বলে জানায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা জানান, রাঙামাটি সড়ক বিভাগের আওতাধীন রাঙামাটি-চট্টগ্রাম, রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি-বান্দরবান সড়ক অন্তত ২৫ জায়গায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মনিরুজ্জামান জানান, বৃষ্টিতে হ্রদের পানি আকস্মিক বেড়ে যাওয়ায় কয়েকটি উপজেলায় গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সাড়ে তিন হাজার হেক্টর ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। এর পরিমাণ আরো বাড়তে পারে বলে জানান তিনি।